আদা প্রাকৃতিক ভেষজ মসলা। নানান রোগ-প্রতিরোধে আদা খুবই কার্যকর। আদায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সিলিকন, সোডিয়াম, আয়রণ, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, ও বিটা ক্যারোটিন।
আদার ভেষজ গুণাগুণঃ
ব্যাথা নিরাময়েঃ
আদা ব্যাথানাশক। অসটিও আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে শরীরের প্রায় প্রতিটি হাড়ের জয়েন্টে প্রচুর ব্যথা উপসর্গ দেখা দেয়। এই ব্যথা নিরাময়ে আদা খুবই কার্যকর। মাংসপেশির ব্যথা থেকেও মুক্তি মিলবে আদায়।
হজমশক্তি বৃদ্ধিতেঃ
হজমে সহায়তাকারী এনজাইমগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় আদা। ফলে হজমশক্তি বাড়ে।
ফুসফুসের উপকারীঃ
সর্দি-কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সাধারণ সমস্যাগুলো দূর করে আদা। জ্বর জ্বর ভাব, মাথা ব্যাথা, গলা ব্যাথা, নাক দিয়ে পানি পড়া কমাতে ও শ্বাসতন্ত্র থেকে কফ দূর করতে আদা চা খুবই কার্যকরী।
বমিভাব দূর করেঃ
আদা বমিভাব ও বমির অস্বস্তি দূর করে। গর্ভবতী নারী, সার্জারির রোগী, ক্যান্সারে আক্রান্ত কেমোথেরাপি দেয়া হচ্ছে এমন ব্যক্তি কিংবা ভ্রমণজনিত ক্রান্তিকর বমিভাব দূর করার জন্য আদা অনেক উপকারী।
দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেঃ
শীতকালে বা ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাবে অনেকেরই দেহের তাপমাত্রা কমে যায় বা প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভতি হয়। এক্ষেত্রে দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় আদার চা পানে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ
ডায়াবেটিস রোগীর সাধারণ অবস্থায় রক্তে গ্লূকোজের স্তর নিম্নমাত্রায় থাকে যার কারণে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। আদার রস সেবন সেই স্তরের উন্নতি ঘটায়।
ক্ষত শুকাতেঃ
আদায় রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি, যা কাটাছেঁড়া, ক্ষত ভালো করে।
হার্টের সুস্থ্যতায়ঃ
রক্তের অনুচক্রিকা ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতে আদা খুবই কার্যকর।
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেঃ
আদার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মানবদেহের রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে। দেহে জমে থাকা বিষাক্ত র্বজ্য অপসারণে আদার ভুমিকা রয়েছে। আদা চা দাগপড়া ত্বক সারিয়ে তুলতে কোষ তৈরিতেও সাহায্য করে। বসে কাজ করার অভ্যাস যাদের তাদের রক্তসঞ্চালন প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়, এ বাধা দূর করে আদা।