বজ্রপাতের শক্তি
আকাশে মেঘে জমা হওয়া স্থির বিদ্যুৎ ১০ মিলিয়ন ভোল্ট পযর্ন্ত উৎপাদন করতে সক্ষম। আর এই উচ্চ বিভব শক্তি বাতাসের একটি চিকন চ্যানেলকে আয়নিত করে পরিবাহী পথ তৈরি করে থাকে। আমরা জানি, বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী। যদিও বজ্রপাতের সময় বাতাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়!
ভূ-পৃষ্ঠের মাটি থেকে মাত্র ৩ মাইল দূরত্বের বজ্রপাত গড়ে ১ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ণ জুল বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। আসুন এবার অংক করিঃ
১ টি ১০০ ওয়াট বাল্ব ১ সেকেন্ড জ্বালাতে বিদ্যুৎ খরচ হয় ১০০ জুল। এই হিসেবে, ১০ বিলিয়ন জুল বিদ্যুৎ শক্তি দিয়ে ১০০ ওয়াটের ১ টি বাল্বকে প্রায় ১১৬০ দিন বা প্রায় ৩৯ মাস জ্বালানো সম্ভব।
আরো জানতে চেষ্টা করি, বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপক একক “কিলোওয়াট-আওয়ার” হিসাবে এ শক্তি ২৭ হাজার ৮০০ কিলোওয়াটেরও বেশি আওয়ার। বাংলাদেশের একটি পরিবারের গড় প্রতি মাসে প্রায় ২০০-২৫০ ইউনিট (কিলোওয়াট-আওয়ার) বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। আর একটি বজ্রপাতের বিদ্যুৎ জমা করলে একটি পরিবার ৯২ মাস বা সাড়ে ৭ বছর বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে।
বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন এই অফুরন্ত তড়িৎ শক্তিকে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য বিজ্ঞানীরা নানান গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এই বিদ্যুৎ আতত্তে আনতে মাত্র ১ সেকেন্ড সময় পাওয়া যাবে, কেননা বজ্রপাতের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে মাত্র ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে।











